নুর আলম সিদ্দিক (পার্বতীপুর উপজেলা প্রতিনিধি) : বাংলাদেশের উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের ৫ নম্বর আসন (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ১৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের গুরুত্ব আজ দেশ ছাড়িয়ে উপমহাদেশে সুবিদিত। আসন্ন নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ এমন একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়, যিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলানোর পাশাপাশি জনগণের হৃদস্পন্দন বুঝতে সক্ষম।
এক নজরে দিনাজপুর-৫ এর জনমিতি
আয়তন: ৬২৪ বর্গ কিলোমিটার।
ভোটার সংখ্যা: ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৬ জন। (পার্বতীপুর ৬৫% ও ফুলবাড়ী ৩৫%)।
শিক্ষার হার: প্রায় ৮০%।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: এখানে মুসলিম ও হিন্দু ভোটারের অনুপাত প্রায় ৬.৮:১। এছাড়াও খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রায় ৬ হাজার ৩৯৭ জন মানুষের বসবাস।
কেন এই আসনটি সারা দেশের মধ্যে অনন্য?
দিনাজপুর-৫ আসনে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর তালিকা দেখলে যেকোনো মানুষ অবাক হতে বাধ্য। বিশেষ করে ৯৫ ভাগ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থানই পার্বতীপুরে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কেন এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ:

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ: এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র সক্রিয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আবিষ্কৃত তামা খনি। উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় জ্বালানি সরবরাহের প্রধান তেল ডিপো এখানেই অবস্থিত।
যোগাযোগ ও রেলওয়ে হাব : ব্রিটিশ আমল থেকেই পার্বতীপুর রেলের শহর। এখানে রয়েছে দেশের বৃহত্তম রেল ইঞ্জিন উৎপাদন ও মেরামত কারখানা (কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা) এবং ৬টি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন।
নিরাপত্তা ও অর্থনীতি : বিজিবি ক্যাম্প ও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্যান্টনমেন্টের অবস্থান এখানে। এছাড়া ৩টি বড় ইপিজেড-এ কাজ করছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। এবং ‘ স্পেন বাংলাদেশ এগ্রো কোম্পানি লিমিটেড ‘ নামক একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান চালু হতে যাচ্ছে। যেখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মস্থল হচ্ছে।
শিক্ষা ও ঐতিহ্য : ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী থেকে শুরু করে পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এই জনপদকে সমৃদ্ধ করেছে। ১৫ মিনিটের দূরত্বে আন্তর্জাতিক মানের সৈয়দপুর বিমানবন্দর এই আসনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেমন প্রার্থী চায় জনগণ?
এই বিশাল অর্থনৈতিক ও ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের মানুষের দাবি এখন স্পষ্ট। ভোটারদের মতে, কেবল রাজনৈতিক পরিচিতি নয়, বরং প্রার্থীর মধ্যে থাকতে হবে বিশেষ কিছু গুণাবলি :
১. উন্নয়নের কারিগর : যিনি ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার এবং বিদ্যমান মেগা প্রজেক্টগুলোর সুষ্ঠু তদারকি করতে পারবেন। ২. জনবান্ধব নেতৃত্ব: যিনি এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের ‘পালস’ বোঝেন। ৩. সাংস্কৃতিক সংহতি: পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর দীর্ঘদিনের যে মিশ্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে, তার ধারক-বাহক হতে হবে।
৪. সৎ ও নির্ভীক: এত বড় শিল্পাঞ্চল ও খনি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে স্বচ্ছতা ও সততার সাথে নেতৃত্ব দিতে পারেন এমন ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন।
দিনাজপুর-৫ আসনটি বাংলাদেশের এক অমূল্য সম্পদ। এখানকার প্রতিটি ভোট কেবল একজন সাংসদ নির্বাচনের জন্য নয়, বরং এই বিশাল রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলোর সঠিক রক্ষক নির্বাচনের জন্য। সচেতন জনগণের প্রত্যাশা উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিই বসবেন এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে।
বিবেচনা আপনার, ভোট আপনার। সুন্দর হোক দিনাজপুর-৫ এর আগামীর পথচলা।


