16.4 C
Saidpur

সত্য প্রকাশে সাহসী

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

সৈয়দপুরে তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মব সৃষ্টিতে জড়িত শিক্ষক সনাক্ত : প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ দায়ের

চিকলী নিউজ : তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান মব সৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করায় এক শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা  মিলেছে। উক্ত শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধ মব সৃষ্টির জন্য তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই স্কুলের শিক্ষার্থীকে উস্কে দিয়েছে। এজন্য প্রধান শিক্ষক সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।

জানা যায় এর সূত্রপাত হয় জাহাঙ্গীর কবির সহ তুলশীরাম স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতে নিষেধ করায়। একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মশিহুর রহমান সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও বোর্ড এর ইংরেজি বিষয়ের খাতা কাটেন যা গুরুতর অপরাধ। তাছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠানের ভিতরে  ইংরেজি প্রাইভেটও পড়ান। মোঃ আশরাফুল ইসলাম প্রায় তিন বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে বদলি হয়ে আসলেও জীববিজ্ঞান, ইংরেজি বিষয়ে প্রাইভেট পড়ানো তার মূল কাজ হয়ে উঠে। এজন্য তিনি আলম প্রেস এ অবস্থিত একটি ডায়াগনষ্ঠিক সেন্টারের ভিতরে কয়েকটি রুম নিয়ে প্রাইভেট / কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সরকার আইন করে তা নিষিদ্ধ করেছে।

প্রধান শিক্ষক অন্যান্য শিক্ষকদের সহ মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, মোঃ মশিহুর রহমান এর প্রাইভেট ব্যবসা বন্ধ করতে বলেন। জাহাঙ্গীর কবীর গত বছর নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শ্রেণি শিক্ষক নির্বচিত হন। সে বছর অন্যান্য বিভিন্ন ক্লাসে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নাই বললেও চলে।

তাছাড়া জাহাঙ্গীর কবির খন্ডঃকালীন (বিজ্ঞান) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেয়। তার নিয়োগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানতে চাইলে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বারাবারি না করার জন্য হুমকি দেয় । পরবর্তিতে এটি আরো বড় আকার ধারণ করে রুটিনে নবম দশম শ্রেণির ক্লাসে জাহাঙ্গীর কবিরের নাম তার পছন্দের বিষয়ে না থাকায়।  তাই জাহাঙ্গীর কবীর নামে সেই শিক্ষক তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্রীদের দিয়ে মব তৈরি করে। পরবর্তিতে এটি যাতে আরও বৃহৎ আকার ধারণ করে সে জন্য কৌশলে বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে।
এই মম সৃষ্টির সাথে শিক্ষকের সহায়তায় কিছু শিক্ষার্থীর সরাসরি অংশগ্রহণ স্পষ্ট । নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে এই মবে অংশগ্রহণ করায়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানিক কাজে গেলে উৎসৃঙ্খল কয়েকজন শিক্ষার্থী কখনও প্রতি ক্লাসে যেয়ে আবার কখনও চিৎকার করে সকলকে মাঠে আসতে বাধ্য করে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় প্রধান শিক্ষক  অনেকটা বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া কমিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রথমদিন আমরা জানতাম না কি নিয়ে আন্দোলন চলছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের ক্লাসে এসে বলে আন্দোলন চলছে সবাইকে যেতে হবে। অনেকটা বাধ্য হয়ে আমরা সেখানে যাই।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার জানান, এটি আমার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র,  আমি মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর সহ কিছু শিক্ষক কে প্রাইভেট পড়াতে নিষেধ করি, তাছাড়া জাহাঙ্গীর কবীর এর নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। আমি বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি। আমি আশাবাদী এই মব সৃষ্টিতে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবীর এর সাথে কথা বলতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, এই স্কুলের মূল সমস্যা প্রাইভেট পড়ানো, শিক্ষকরা  ক্যাম্পাসের বাসায় ও বাইরে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ায়। এই কাজে বদলি হয়ে আসা শিক্ষকও আছেন। প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া যায় কেবল তাহলেই এই প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

- Advertisement -spot_img

আরও খবর

আপনার মন্তব্য:

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.

- Advertisement -spot_img

সদ্যপ্রাপ্ত

জাতীয়