নাজমুজ সাকিব, পার্বতীপুর, দিনাজপুর : বর্তমান সময়ের ক্ষমতার সংঘাত আর পদ-পদবির লড়াইয়ের ভিড়ে এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্য ও ত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন দিনাজপুর-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন। ব্যক্তিগত জয় বা পদের মোহকে তুচ্ছজ্ঞান করে জোটের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজের প্রার্থিতা ছেড়ে দিয়ে এখন কাজ করছেন জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপি-র (NCP) ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ-এর জন্য।
আদর্শ যখন ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে
রাজনীতিতে যেখানে শেষ মুহূর্তের দলবদল কিংবা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ার ঘটনা প্রাত্যহিক চিত্র, সেখানে আনোয়ার হোসেনের ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। জোটের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি কেবল নির্বাচনী মাঠ থেকেই সরে দাঁড়াননি, বরং ডাঃ আব্দুল আহাদকে বিজয়ী করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।

প্রতিহিংসা নয়, সহযোগিতার সংস্কৃতি
প্রতিহিংসার রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে আনোয়ার হোসেনের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক দর্শন। তার সমর্থকদের মতে:
জোটের সংহতি: ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে জোটের ঐক্য রক্ষা করাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিচক্ষণ নেতৃত্ব: নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিশ্রম বিসর্জন দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, নেতৃত্ব মানে কেবল পদ নয়, ত্যাগও বটে।
তৃণমূলের উদ্দীপনা: তার এই ত্যাগে জামায়াতের তৃণমূল কর্মীরা হতাশ না হয়ে বরং দ্বিগুণ উৎসাহে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
মাঠপর্যায়ের চিত্র
দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) এলাকার বিভিন্ন জনসভা ও গণসংযোগে দেখা যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আনোয়ার হোসেন নিজে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং এনসিপি প্রার্থীর হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
“রাজনীতি যেখানে লোভের ফাঁদ, সেখানে আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন এক ব্যতিক্রমী ধ্রুবতারা। তার এই মহানুভবতা দিনাজপুর-৫ আসনের ভোটারদের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।” স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
শেষান্তে :
ব্যক্তিগত ইমেজের চেয়ে সামষ্টিক বিজয় যখন মুখ্য হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্রের ভিত আরও মজবুত হয়। আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেনের এই আত্মত্যাগ কেবল একটি আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


