চিকলী নিউজ : নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১২ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেছেন, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরের জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের এই জুলাই আমরা আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির হাতে তুলে দিতে চাই না। দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও আমরা রাজপথ ছাড়িনি। কারণ আমাদের রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের জন্য।
তিনি বলেন, আমীর এ জামায়াত স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে, হারিয়ে যাওয়া সৈয়দপুর আবার ফিরে আসবে। এই জনপদকে আমরা আধুনিক, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তর করতে চাই।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সৈয়দপুর উপজেলার রেলওয়ে মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বক্তব্যে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, আমরা সৈয়দপুরে শুধু রাজনীতি করতে চাই না, আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করতে চাই। কিশোরগঞ্জ একটি কৃষিনির্ভর উপজেলা। এই অঞ্চলের কৃষিকে আধুনিকায়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর একটি বহুভাষা, বহুধর্ম ও বহুসংস্কৃতির শহর। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সৈয়দপুর গড়বো, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন করবো।
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সৈয়দপুরকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে যানজট নিরসনে রাস্তা প্রশস্তকরণ, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু, শহরের সৌন্দর্যবর্ধন, বস্তি ও ক্যাম্প এলাকার মানুষের জন্য উন্নত বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মা-বোনদের জন্য নিরাপদ শহর গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী দিনে এই আসনটি আমীর এ জামায়াতকে উপহার দিতে, ১২ দলীয় জোটকে উপহার দিতে। এই আসন হবে উন্নয়ন, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসাথে লাল কার্ড দেখানোর সময় এসেছে। চলুন, সবাই মিলে গড়ি একসাথে বাংলাদেশ, সবাই মিলে গড়ি সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ও ১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


