চিকলী ডেস্ক নিউজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিচিত হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রার্থী জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন। নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের জনসভা সবখানেই তারা ছিলেন আলোচনার তুঙ্গে। তবে ভোটের চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জনমঞ্চে সাড়া ফেললেও ব্যালট বাক্সে তাদের অনেকেই সুবিধা করতে পারেননি।
প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আলোচিত এসব প্রার্থীদের বড় একটি অংশই পরাজিত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা–৮ আসন থেকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক পাটোয়ারী নির্বাচনে অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মন্তব্য এবং নানা কর্মকাণ্ড করে ছিলেন আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত হেরে যান মির্জা আব্বাসের কাছে।

ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে হেরেছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর যোগ দেন এনসিপিতে। ঢাকা–৯ আসন থেকে দলটির মনোনয়নও পান। তবে এনসিপির জামায়াত জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর দল থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন।
অনেক দিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ঘটনায় আলোচনায় আসা খেলাফত মজলিস নেতা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে হেরে গেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে।
বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীও এই নির্বাচনে ছিলেন আলোচিত। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে ব্যালটে সুবিধা করতে পারেননি তিনিও।
খুলনা-৫ আসনে হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। পরওয়ারের চেয়ে দুই হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, কিন্তু তিনি সনাতন ধর্মের অনুসারী—এ পরিচয়ই এবারের নির্বাচন আলোচিত করেছে খুলনা–১ আসনের কৃষ্ণ নন্দীকে। জামায়াতের হিন্দু শাখার সাবেক এই সভাপতি ভোটের মাঠে নানা বক্তব্যে ছিলেন আলোচনায়। তবে ব্যালটে সুবিধা করে উঠতে পারেননি। খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমও পঞ্চগড়-১ আসনে পরাজিত হয়েছেন।


