নাজমুজ সাকিব , (পার্বতীপুর), দিনাজপুর : নিজস্ব কলাম | একটি রাষ্ট্র কতটা মানবিক, তা পরিমাপ করা হয় সেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষটি কতটা অধিকার ভোগ করছে তার ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের মধ্যে একটি বিশাল অংশ প্রতিবন্ধী। অথচ নীতি-নির্ধারণী জায়গা অর্থাৎ জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব আজও আক্ষরিক অর্থে শূন্য।
কেন এই সংরক্ষিত আসন সময়ের দাবি ?
১. প্রতিনিধিত্বহীনতার অবসান: একজন সুস্থ মানুষ কখনোই একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনের লড়াই, সামাজিক বাধা এবং মানসিক যন্ত্রণা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারবেন না। “আমাদের জন্য আমরাই” এই নীতি বাস্তবায়নে সংসদে তাদের সরাসরি উপস্থিতি জরুরি।
২. আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন: প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে এখনো অনেক শৈথিল্য রয়েছে। সংসদে একজন প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি থাকলে তিনি এই আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ এবং যুগোপযোগী সংশোধনে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন।
৩. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: যখন একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে নীতি নির্ধারণ করবেন, তখন সমাজের প্রচলিত ‘দয়া’ বা ‘করুণা’র দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। এটি জাতির কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে যে, শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা মেধা ও নেতৃত্বের পথে বাধা নয়।

কবে পূরণ হবে এই স্বপ্ন ?
স্বপ্নের বাস্তবায়ন কোনো অলৌকিক ঘটনার ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
সংবিধান ও অঙ্গীকার : বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সেই অধিকারের পূর্ণতা পেতে নারী আসনের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও নির্দিষ্ট সংখ্যক (যেমন: অন্তত ৫টি) সংরক্ষিত আসন রাখা এখন সময়ের দাবি।
২০২৬-এর প্রত্যাশা : ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে, ২০২৬ সালের দিকে আমরা যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির সংস্কার দেখতে পাই, তবেই এই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করবে। তরুণ প্রজন্ম এবং নাগরিক সমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন, যা এই দাবি আদায়ে সহায়ক হবে।
জাতি যে কল্যাণ ভোগ করবে,
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংসদে অন্তর্ভুক্তি কেবল তাদের জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্যই আশীর্বাদ বয়ে আনবে
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি: জিডিপিতে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অবদান নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বৈশ্বিক ভাবমূর্তি: বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল এবং মানবাধিকার-বান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সহমর্মী সমাজ গঠন: প্রতিবন্ধী শিশুদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এই উদ্যোগ, তারা নিজেকে সমাজের বোঝা মনে না করে আগামীর কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবে।
উপসংহার : প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়, বরং বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্যকে যখন সংসদীয় গণতন্ত্রে জায়গা দেওয়া হবে, তখনই আমাদের গণতন্ত্র প্রকৃত অর্থে পূর্ণতা পাবে। জাতির কল্যাণ তখনই নিশ্চিত হবে, যখন কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।


