21.3 C
Saidpur

সত্য প্রকাশে সাহসী

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ছাত্ররাজনীতির আঙিনা থেকে গণমানুষের হৃদয়ে : এক আপোষহীন জননেতার গল্প

নাজমুজ সাকিব, দিনাজপুর : আশির দশকের উত্তাল দিনগুলোতে দিনাজপুর সরকারি কলেজের সবুজ চত্বর থেকে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, চার দশক পেরিয়ে সেই যাত্রা আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তিনি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জাতীয়তাবাদী নেতা আজ কেবল একটি নাম নন, বরং দিনাজপুরের রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি এবং ত্যাগী রাজনীতির মূর্ত প্রতীক। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনে দিনাজপুর – ৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লড়ছেন খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে।

তৃণমূল থেকে নেতৃত্বের শিখরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক হাতেখড়ি আশির দশকে। দিনাজপুর জিলা স্কুল ও সরকারি কলেজের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি আর পিছনে ফিরে তাকাননি। তার মেধা ও সাহসের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন
জেলা ছাত্রদল, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে আহবায়ক।

৯০-এর গণঅভ্যুত্থান : স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর জেলা আহবায়ক হিসেবে রাজপথে সম্মুখভাগে নেতৃত্ব প্রদান।

নির্বাচিত সভাপতি : নব্বইয়ের দশকে জেলা কাউন্সিলে সর্বোচ্চ ভোটে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঈর্ষণীয় সাফল্য : আওয়ামী শাসনামলের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় টানা তিনবার দিনাজপুরের সফল মেয়র নির্বাচিত হন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, “জনতার কাতারে মিশে যাওয়া এই নেতা প্রমাণ করেছেন যে, সততা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও জয় নিশ্চিত।”

দুঃসময়ের কাণ্ডারি ও আপোষহীন নেতৃত্ব : সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম মানেই প্রতিকূল স্রোতে টিকে থাকার নাম। ২০০৭-২০০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে যখন রাজনীতিতে ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজ করছিল, তখন মঈন-ফখরুউদ্দিনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দিনাজপুর রাজপথে প্রথম প্রতিবাদ সভার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

তিনি আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়া ছাত্ররাজনীতির এক সোনালী ফসল।

সাংগঠনিক দক্ষতায় জাতীয় পর্যায় : তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি হাই কমান্ড তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছে

বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নির্বাহী সদস্য।

স্বেচ্ছাসেবক দল : দীর্ঘ দেড় যুগ জেলা আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন।

জেলা বিএনপি : ২০১০ সালের কাউন্সিলে রেকর্ড ভোটে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বনাম আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা : আওয়ামী শাসনামলে অসংখ্যবার কারাবরণ এবং দফায় দফায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিটি জেল-জুলুম তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আনুগত্য তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
আশির দশক থেকে ২০২৬ বিরামহীন এই পথচলায় সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম আজ কেবল একজন নেতা নন, তিনি এক অপরাজেয় আদর্শের নাম। নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তার হাত ধরেই আগামীতে দিনাজপুরে জাতীয়তাবাদের বিজয় নিশান আরও সুদৃঢ় হবে।

- Advertisement -spot_img

আরও খবর

আপনার মন্তব্য:

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.

- Advertisement -spot_img

সদ্যপ্রাপ্ত

জাতীয়