চিকলী নিউজ : নীলফামারীর সৈয়দপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেছেন, আমি যদি খারাপ মানুষ হতাম, তাহলে এক উপজেলার সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ৯ জন চেয়ারম্যান আমাকে সমর্থন করতেন না। যারা বিএনপির নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি করছে এই পথের পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে।
গত রোববার (৮ ফ্রেব্রুয়ারি) বিকেলে সৈয়দপুর উপজেলার বাংলা হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি সিদ্দিক বলেন, আমি নিজের টাকায় রাজনীতি করি। জনগণের টাকা দিয়ে কাউকে হয়রানি করি না। ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয় দেখানো কিংবা দমন-পীড়নের রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি না।তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাকে পাঁচ বছরের জন্য সংসদ সদস্য বানিয়েছিলেন, কিন্তু আমি ছয় মাসও দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। এটি ছিল জনগণের রায়ের প্রতি চরম অবিচার।

আমি আপনাদের কথা দিয়েছিলাম মাত্র ছয় মাসে অনেক কিছু করেছি কিন্তু পুরোপুরি পুরণ করতে পারি নাই ইনশাআল্লাহ আবার সুযোগ দিলে এবার করবো জনসভায় তিনি বলেন, তাঁকে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, মামলা করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তবতা হলো জনগণই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।সমাজে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও নিরীহ মানুষকে হয়রানির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড রাজনীতিকে কলুষিত করছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ ধরনের অপশক্তিকে সামাজিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, নিরীহ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভয় দেখানো ও হয়রানি করার রাজনীতি সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের রাজনীতি দেশ ও সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বক্তব্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নিয়েও মন্তব্য করেন সিদ্দিক। তিনি বলেন, প্রতারক ও দখলবাজদের জায়গা দেওয়ার রাজনীতির কারণেই বিএনপি আজ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ কারণেই অনেক বিএনপি নেতাকর্মী তাঁর কাছে এসে সমর্থন জানাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।উন্নয়ন প্রসঙ্গে সিদ্দিক বলেন, তাঁর উন্নয়নমূলক কাজই প্রতিপক্ষের ঈর্ষা ও ষড়যন্ত্রের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন, আস্থা ও নৈতিকতার রাজনীতিই আমার লক্ষ্য। ভয় ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে জনগণের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি প্রতীক বা একটি পদের লড়াই নয় এটি অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নৈতিক অবস্থানের নির্বাচন।শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, লাঙ্গল প্রতীক হবে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক মানুষ, নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মাঠ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মানুষের ঢল, স্লোগান ও উচ্ছ্বা মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জনসভা প্রাঙ্গণ।


