চিকলী নিউজ : সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যে বলেন, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালীপাড়া এলাকায় স্পিড ব্রেকার অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইটভাটা ম্যানেজার খায়রুল ইসলাম।বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দোয়ালীপাড়া এলাকায় একটি স্পিড ব্রেকার অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলাকালে মোটরসাইকেল বেপরোয়া চালানোকে কেন্দ্র করে উপস্থিতদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় পারভেজ ইসলাম (লালবাবু) ও রিয়ালসহ কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

অভিযোগ রয়েছে,পরবর্তীতে তারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে একটি সংঘবদ্ধ দল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে ফিরে আসে।সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ২৫-৩০ জনের ওই দল দোয়ালীপাড়া মোড়ে অবস্থান নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে খায়রুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং তার কাছে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।লোহার রড দিয়ে আঘাতের ফলে তার ডান কানের পর্দা ফেটে যায় এবং চোয়ালের হাড় ভেঙে যায় বলে জানা গেছে ।
হামলাকারীরা পরে আইয়ুব হোসেন ও আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে হামলার উদ্দেশ্যে ঢোকার চেষ্টা করে এবং তাদের পরিবারকে হুমকি দেয়।স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।তবে এলাকাবাসীর সহায়তায় দুইজনকে আটক করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তা মামলায় রূপ নেয় এবং বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে অভিযোগে উল্লেখিত অন্যান্য আসামিরা এখনও পলাতক এবং তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তাদের মতে, এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত,জড়িত সকল আসামির গ্রেপ্তার,দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা,পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয়রা।


